অনলাইনে পাসপোর্ট বানানোর নিয়ম : ঘরে বসে e - Passport আবেদনের A to Z সম্পূর্ণ গাইড ।
অনলাইনে পাসপোর্ট বানানোর নিয়ম : ঘরে বসে e - Passport পাসপোর্ট আবেদনের A to Z সম্পূর্ণ গাইড ।
পাসপোর্ট করতে হবে শুনলে আগে মাথায় আসতো লম্বা লাইন , দালাল আর হয়রানি । এখন সময় পাল্টেছে । বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল e - Passport সিস্টেম চালু হওয়ার পর থেকে এখন আপনি ঘরে বসেই , মোবাইল দিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন । এক টাকাও কাউকে এক্সট্রা দিতে হবে না ।
আজকের এই পোষ্টে আমি একদম হাতে ধরে স্টেপ বাই স্টেপ সব নিয়ম দেখাবো ।
এই পোস্টে আপনি যা জানতে পারবেন ।
www.epassport.gov.bd/status
পর্ব ১ঃ e - Passport সম্পর্কে সব যা জানা দরকার
- Passport আসলে কি ?
e - Passport হলো Electronic Passport । এটার সামনের কভারের ভেতরে একটা
মাইক্রোচিপ থাকে । সেই চিপে আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য যেমন : ১০ আঙ্গুলের
ছাপ, চোখের আইরিস, ডিজিটাল ছবি এনক্রিপ্ট করে রাখা থাকে ।
MRP পাসপোর্ট vs e-Passport
আগে MRP পাসপোর্ট ছিল । এখন সরকার আর MRP ইস্যু করে না ।
e-Passport এর সুবিধা :
- সর্বোচ্চ নিরাপত্তা : জাল করা সম্ভব না ।
-
দ্রুত ইমিগ্রেশন : দেশের বাইরের এয়ারপোর্টে e-Gate দিয়ে লাইন ছাড়াই ২০
সেকেন্ডে কাজ শেষ ।
-
অনলাইন ভেরিফিকেশন : বিদেশে বসেও আপনার পাসপোর্ট ভেরিফাই করা যাবে ।
- দীর্ঘ মেয়াদ ৫ বছর এবং ১০ বছর মেয়াদ এর অপশন ।
পর্ব ২ : আবেদন করার আগে যে ডকুমেন্টগুলো লাগবেই
আবেদন শুরু করার আগে নিচের কাজগুলো PDF বা ছবি দিয়ে মোবাইলের সেভ করে রাখুন
ক. নতুন পাসপোর্ট এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- জাতীয় পরিচয়পত্র NID : ১৮ বছরের বেশি হলে এটা বাধ্যতামূলক । NID এর তথ্যই ফাইনাল ।
-
জন্মনিবন্ধন : ১৮ বছরের কম হলে ইংরেজি ভার্সন জন্মনিবন্ধন লাগবে ।
- পিতা-মাতার NID : ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ।
- পেশার প্রমাণ : স্টুডেন্ট আইডি , অফিস আইডি , ট্রেড লাইসেন্স ।
-
নাগরিকত্ব সনদ : ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশন মেয়র এর
কাছ থেকে ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা : NID কার্ডে আপনার নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম এবং জন্মতারিখ যেভাবে আছে, আবেদন ফরমে হুবুহু সেইভাবে লিখবেন ।
পর্ব ৩: অনলাইনে e-Passport আবেদনের ধাপসমূহ
পুরো প্রসেসটা ৪ টা ধাপে শেষ ।
ধাপ ১: e-Passport ওয়েবসাইডে রেজিস্ট্রেশন
- ব্রাউজারে গিয়ে লিখুন : WWW.epassport.gov.bd
- হোমপেজে "Apply Online" বাটনে ক্লিক করুন ।
- "Register" এ গিয়ে আপনার বৈধ ইমেইল, নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে একটা অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন ।
ধাপ ২ : আবেদন ফরম পূরণ এবং সাবমিট
একাউন্ট এয়ার লগইন করার পর "New Application" এক ক্লিক করুন । তিনটি ধাপে তথ্য
দিতে হবে : Parsonal , Passport, Other Information । সবশেষে "Submit" করে 2
টা PDF প্রিন্ট করে রাখুন ।
ছবি
ধাপ ৩ : পাসপোর্ট ফি কিভাবে জমা দিবেন ?
কি জমা দেওয়ার ৩ টি সরকারের উপায় আছে : A-Challan অ্যাপ, নির্ধারিত ব্যাংক,
অনলাইন কার্ড পেমেন্ট ।
সরকারি ফি তালিকা :
| পাসপোর্টের ধরন | সাধারন ১৫-২১ দিন | জরুরি ৭-১০ দিন | অতিজরুরি ২-৩ দিন |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পেইজ, ৫ বছর | ৪০২৫ টাকা | ৪০২৫ টাকা | ৬৩২৫ টাকা |
| ৪৮ পেইজ, ১০ বছর | ৫৭৫০ টাকা | ৫৭৫৫ টাকা | ৮০৫০ টাক |
ধাপ ৪ : RPO তে গিয়ে বায়োমেট্রিক এবং ছবি তোলা
ফি জমা দেয়ার পর ওয়েবসাইট থেকে "Schedule Appointment" বুক করুন ।
RPO তে গেলে ছবি, ১০ আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং আইরিস স্ক্যান হবে । শেষে
Delivery Slip দিবে ।
পর্ব ৪ : পাসপোর্ট স্ট্যাটাস কিভাবে চেক করবেন ?
Delivery Slip পাওয়ার পর
www.epassport.gov.bd/status এ গিয়ে Application ID দিলে লাইফ
স্টাইল দেখাবে । SMS ও আসবে ।
পর্ব ৫: ৯০% মানুষকে ৭ টি ভুল করে পাসপোর্ট আটকায়
- NID এবং আবেদনের তথ্যের অমিল
- ভুল মোবাইল নম্বর দেওয়া
- অস্পষ্ট ডকুমেন্ট আপলোড
- দালালের খপ্পরে পড়া
- পেশা "Others" সিলেক্ট করা
- ঠিকানা ভুল দেওয়া
- ছবির ড্রেস কোড না মানা
পর্ব ৬ : কিছু কমন প্রশ্ন এবং উত্তর FAQ
প্রশ্ন ১ : বাচ্চার পাসপোর্ট করতে কি লাগে ?
উত্তর : বাচ্চার ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন, পিতা-মাতা দুজনেরই NID,3R সাইজের ছবি ।
প্রশ্ন ২: পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কি করব ?
উত্তর : প্রথমে থানার GDকরব । তারপর GD এর কপি নিয়ে Re-issue
এর জন্য আবেদন ।
শেষ কথা
বন্ধুরা , সরকার ডিজিটাল সার্ভিস সহজ করার পরেও আমরা
দালালের পিছনে টাকা নষ্ট করি । নিজে একটু সময় দিয়ে এই প্রচেষ্টা
শিখে নিলে আপনি যেমন টাকা বাঁচাবেন, তেমনি হয়রানিও বাঁচবেন ।
মনে রাখবেন সঠিক তথ্য + সঠিক ডকুমেন্ট = ঝামেলা হীন পাসপোর্ট ।
এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসলে আর করুন । পাসপোর্ট করতে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়লে
কমেন্টে জানান ।
.jpg)

.jpg)


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url